Disease BD

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল-খাওয়ার আগে, ভরা পেটে

ডায়াবেটিস হলো হরমোন সংশ্লিষ্ট একটি ব্যধি যা “বহুমূত্র” রোগ নামে পরিচিত। ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল হয় এটি জানা আমাদের জন্য জরুরি। সাধারণত ডায়াবেটিস হলে আমাদের রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায় । ইনসুলিন (হরমোন) রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটি পাকস্থলীর পেছনে থাকা অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস নামের একটি গ্রন্থি থেকে তৈরি হয়। খাবার পরিপাক হয়ে যখন রক্তে প্রবেশ করে, তখন ইনসুলিন রক্ত থেকে সুগারকে কোষের ভেতরে এনে সেটাকে ভেঙ্গে শক্তি উৎপাদন করে। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে আমাদের দেহ সুগারকে ভেঙ্গে এভাবে শক্তি উৎপাদন করতে পারে না।

ডায়াবেটিস হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে দেয়া ভালো। শুরু থেকেই চিকিৎসা নিলে ডায়াবেটিসের সাথে অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে যায়। 

০১.ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল ?

রক্তে সুগারের মাত্রা কত হলে স্বাভাবিক তা কোণ পদ্ধতিতে মাপা হয় তার উপরে নির্ভর করে। সাধারণত বাড়িতে অথবা ফার্মেসিতে গ্লুকোমিটার এর সাহায্যে আঙ্গুলের ডগায় থাকা রক্তনালী থেকে ডায়াবেটিস মাপা হয়। 

অন্যদিকে হাসপাতালের ল্যাবে শিরা থেকে রক্ত নিয়ে ব্লাড এর সুগার মাপা হয়। হাসপাতাল থেকে পাওয়া রিপোর্টের তুলনায় গ্লুকোমিটারে মাপা ব্লাড সুগারের মাত্রা সামান্য বেশি আসতে পারে। আমরা দুই পদ্ধতিরই স্বাভাবিক অবস্থা তুলে ধরছি।

০২.গ্লোকোমিটারে ডায়াবেটিস মাপা

যদি একজন সুস্থ মানুষ গ্লুকোমিটারে ডায়াবেটিস মাপেন, তাহলে তার রক্তে সুগারের মাত্রা খাবার আগে ৪-৬ পয়েন্ট (mmol/l) এবং খাবার পরে বা ২ ঘণ্টা পরে ৮ পয়েন্টের নিচে হলে তা স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।

০৩.হাসপাতালের ল্যাবে ডায়াবেটিস মাপা

খালি পেটে:

খালি পেটে আপনার শিরা থেকে নেয়া রক্তে, সুগারের মাত্রা ৫.৫ পয়েন্ট (mmol/l) এর আশেপাশে থাকা ভালো। সুগারের মাত্রা যদি ৬.১-৬.৯ পয়েন্ট (mmol/l) এর মধ্যে থাকে, তাহলে এই অবস্থাকে বলা হয় প্রি-ডায়াবেটিস। 

প্রি-ডায়াবেটিস বলতে শরীরের এমন অবস্থাকে বোঝায় যখন আপনার টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি সৃষ্টি হয় এবং হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এই অবস্থাকে আপনার সতর্কবার্তা হিসেবে ধরে নিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে মনযোগী হওয়া উচিত।

ভরা পেটে বা খাবার ২ ঘণ্টা পরেঃ

ভরা পেটে বা খাবারের পরে রক্তে সুগারের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়াকে স্বাভাবিক ধরা হয় । তবে এই মাত্রা যদি ৭.৮ পয়েন্টের (mmol/l) বেশি বেড়ে যায় তাহলে তাকে প্রি-ডায়াবেটিস ধরা হয়। আর ১১.১ পয়েন্টের বেশি হলে এটি ডায়াবেটিসের মাত্রায় চলে আসে। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

বাচ্চাদের ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

০৪.বাচ্চাদের ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

স্বাভাবিক ভাবে আমরা অনেকে জানি না , ডায়াবেটিস একটি কমন রোগ বা  ব্যধি। এই রোগটি ছোট বড় সবাইর হতে পারে । শিশুদেরও ডায়াবেটিস রোগ হয়। কিন্তু রোগের ধরণ ভিন্ন।

বাচ্চাদের সাধারণত টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয়।সাধারণত ৫-২০ বছর বয়সী বাচ্চারা টাইপ-১ ক্যাটাগরির ডায়াবেটিস রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। এ ধরনের ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় কোন ওষুধ কাজ করতে পারেনা। এর জন্য সরাসরি ইনসুলিন নেয়ার মাধ্যমেই চিকিৎসা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কেননা টাইপ-১ ক্যাটাগরির ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিন হরমোন উৎপাদিত হতে পারেনা বলেই তারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়।

            ১। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে রক্তের সুগার লেভেল ৭০ mml/dL থেকে ১৫০                       mml/dL পর্যন্ত থাকাটা নরমাল বিবেচনা করা হয়।

            ২। সেইসঙ্গে খালি পেটে বাচ্চাদের রক্তের সুগার লেভেল ৭০ mml/dL এর কাছাকাছি হওয়া                         নরমাল এবং ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে বা খাওয়ার পর রক্তের সুগার লেভেল ১৫০ mml/dL এর                     কাছাকাছি থাকা নরমাল।

    কিন্তু যদি রাতে বাচ্চাদের রক্তের সুগার লেভেল কোনভাবে ১২০ mml/dL এর কম হয় তবে সেক্ষেত্রে কোনরকম বিলম্ব না করে সরাসরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াটা শ্রেয় কেননা এটা ডায়াবেটিস হওয়ার একটা নিদর্শন । কেননা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে রাতের বেলায় রক্তের সুগার লেভেল ১২০ mml/dL এর নিচে থাকাটা খুবই বিপদজনক। তাই আমাদের উচিত যদি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এরকম হয়ে থাকে বা এরকম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদেরকে সাহস যোগানো জরুরী কারণ যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে আত্ম শক্তি রোগ এর প্রকুপ অনেকাংশে কমিয়ে দেয় ।

    ০৫.ডায়াবেটিস কত হলে বিপদ

    The University of Michigan এর মতে, ডায়াবেটিস এর মাত্রা যদি 300 mg/dL এর থেকে বেশি হয় তাহলে সেটা খুবি বিপজ্জনক হতে পারে শরীরের জন্য। আপনার অবিলম্বে ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া উচিত তখনি যখন পরপর 300 mg/dL এর দুই বা তার বেশি মাত্রায়/ রিডিং দেখা যায়।

    আরো পড়ুন-
    ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

    Leave a Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Scroll to Top